এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে ফোনে কথা অগ্নিমিত্রা পালের কড়া বার্তা জেলা সভাপতির মন্দির লাগোয়া জমি দখলের অভিযোগে কাঠগড়ায় বিজেপি নেত্রী বিক্ষোভ, বাকবিতন্ডা, উত্তেজনা আসানসোলে
*বেঙ্গল মিরর, আসানসোল, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* মন্দিরের জন্য দান করা জমি দখলের অভিযোগে নাম জড়ালো রাজ্যের শাসক দল বিজেপির। অভিযোগ, জমির মালিকের হয়ে এলাকায় গিয়ে মন্দির লাগোয়া জমির চারপাশ কাটার কাজ তদারকি করছিলেন বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক কাকলি ঘোষ। এলাকার বাসিন্দারা সেই খবর পেয়ে সেই নেত্রীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে ঐ নেত্রীর সঙ্গে থাকা লোকজনদের বাকবিতন্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়।














এরপরে এলাকায় আসেন আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার বিধায়ক তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের প্রতিনিধি আসানসোল পুরনিগমের ৮৪ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর জেলা বিজেপির সহসভাপতি মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়। তিনি মন্ত্রীকে গোটা বিষয়টি বলেন। এর পাশাপাশি তিনি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা মন্ত্রীর কথা বলান।

বুধবার সকালের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার হিরাপুর থানার অন্তর্গত ইসমাইলের সহযোগী নগর এলাকায়।এদিকে, বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, দলের কেউ এই ধরনের কাজে থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, আমি প্রথমে খবর পেয়ে মন্ডল সভাপতিকে পাঠিয়েছিলাম।

দলের নেত্রী সেখানে যান জমির মালিকের হয়ে। তারপরে পুলিশ যায়। পরে কি হয়েছে আমার জানা নেই। যদি কোন সমস্যা হয়, তাহলে তা পুলিশ মেটাবে। তাতেও কিছু না হলে আদালত রয়েছে। তবে আমার, সাফ কথা যদি, জানা যায়, কেউ জমি দখলের মতো কাজে জড়িত, তাহলে তাকে দল থেকে বার করে দেওয়া হবে।
সহযোগী নগরের এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মন্দিরের সামনে থাকা একটি জমি এদিন দখলের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা সাধারণ সম্পাদক কাকলি ঘোষ। অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। সেখানে কাকলি ঘোষের সঙ্গে এলাকাবাসীদের বচসা শুরু হয়। পরে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখান স্থানীয়রা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হিরাপুর থানার পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।এদিকে, এই সমস্যার কথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে জেলা নেত্রী মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়ের ফোনে জানান এলাকাবাসীরা। তাঁদের দাবি, এই জমির মালিক ডাঃ সুনীতি কুমার ঘাঁটি। তিনি সেই জমি অনেক বছর আগে মন্দির করার জন্য দিয়েছেন। তিনি মারা গেছেন।
এখন তার ছেলে সুমিত ঘাঁটি সেই জমির দখল নিতে চাইছেন বলে অভিযোগ। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এলাকার বাসিন্দাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, তিনি জমির মালিকের সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা বলবেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে উঠা জমি দখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিজেপি নেত্রী কাকলি ঘোষ।
তিনি বলেন, আমাকে জমির মালিক বলেছিলেন। তাই আমি এলাকায় যাই। এতে আমার কোন ইন্টারেস্ট নেই। এলাকার বাসিন্দারা আমার সঙ্গে খুবই খারাপ ব্যবহার করেছেন। তবে, দলের রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য নিজে যখন এই ধরনের কাজে দলের সবস্তরের নেতা ও কর্মীদেরকে এই ধরনের কাজ জড়িত না থাকার কড়া বার্তা দিয়েছেন, তারপরেও কেন তিনি ব্যক্তিগত মালিকানার জমি দখলে গেলেন, তার কোন সদুত্তর বিজেপি নেত্রী দিতে পারেননি।
এদিকে, মধুমিতা চট্টোপাধ্যায়, আমি বিধায়ক তথা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে সব বলেছি। তিনি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। গোটা বিষয়টি তিনি দেখছেন। তবে, কেউ মন্দিরের জমি দখল করতে পারবে না।এদিকে, হিরাপুর থানার পুলিশ দু’পক্ষকেই ডেকে বৃহস্পতিবার কথা বলবে বলে জানা গেছে। তবে, গোটা ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।


