কুলটিতে সাইবার অপরাধ চক্র ও কল সেন্টারের হদিশ, পুলিশের অভিযানে ধৃত ১২, বাজেয়াপ্ত ৩ লক্ষ টাকা সহ প্রচুর ইলেকট্রনিক ডিভাইস
*বেঙ্গল মিরর, কুলটি, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* আসানসোলের কুলটি থানার নিয়ামতপুর হরিজন পাড়া ও সংলগ্ন এলাকায় সাইবার অপরাধ চক্র ও কল সেন্টারের হদিশ মিললো। তার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ ও সাইবার থানার আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানে রেফ, কমব্যাট ফোর্স সহ বিপুল সংখ্যায় পুলিশ এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছিলো।সন্ধ্যে নাগাদ আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি ( সাইবার) রাহুল পান্ডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, অভিযান এখনো চলছে। অভিযানে একাধিক দল অংশ নিয়েছে।













এখনো পর্যন্ত কল সেন্টার ও সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে নগদ ৩ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রচুর ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, রাউটার, এন্ড্রয়েড ফোন, আই ফোন, ক্রেডিট কার্ড, কি বোর্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই ও সিমকার্ড। জানা গেছে, এদিন সকালে পুলিশের একাধিক দল এলাকার হরিজন পাড়ায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে তল্লাশি চালালো শুরু করে।

এমনকি কিছু বন্ধ বাড়ির তালা ভেঙেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর।দেখা যায়, এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। ফলে পুলিশের এই অভিযানের সময় গোটা এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। পুলিশ ও সাইবার অপরাধ বিভাগের আধিকারিকরা গোটা এলাকায় তল্লাশি চালানোতে নেতৃত্ব দেন। এসিপি ( সাইবার) আরো বলেন, ন্যাশানাল সাইবার ক্রাইম ব্যুরো থেকে আমরা তথ্য পাই। তারপর এলাকা চিহ্নিত করে এদিন অভিযান চালানো হয়। প্রায় সব বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন, কি কারণে শুধুমাত্র এই এলাকায় এই ভাবে সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যেসব বাড়ি থেকে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ পাওয়া গেছে, সেইসব বাড়ির সদস্যদের এইসব কিছু সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেউ এইসব কিছু চালাতে জানেন না। পাশাপাশি এই গোটা চক্রের সঙ্গে জামতাড়া গ্যাংয়ের সরাসরি কোন যোগ আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে, মনে করা হচ্ছে, এইসব কিছুর সঙ্গে বড়সড় চক্র রয়েছে। যাদেরকে ধরা হয়েছে, তাদের ভালো করে জেরা করে আরো তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে এসিপি জানিয়েছেন।

