কুলটির ক্যাটারিং ব্যবসায়ী প্রতারণার শিকার, সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ
বেঙ্গল মিরর, কুলটি, পশ্চিম বর্ধমান | ২৬ মে ২০২৬কুলটির এক ক্যাটারিং ব্যবসায়ী বিক্রম রুদ্র, যিনি একটি ডেলিভারি ও ক্যাটারিং ব্যবসার মালিক, তিনি একটি সুপরিকল্পিত সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতারণার ঘটনায় ভুয়ো ক্যাটারিং অর্ডার, পরিচয় গোপন করে বিভ্রান্তি তৈরি এবং অনলাইন পেমেন্ট জালিয়াতির বিষয় সামনে এসেছে।বিক্রম রুদ্র জানান, ৮২৮২০৩৭০৬১ নম্বর থেকে প্রথমে তাঁর শ্বশুরের কাছে ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে “তপেশ মেডিক্যাল”-এর নিয়মিত কাস্টমার বলে পরিচয় দেয় এবং জানায় যে সে কেন্দুয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা ও বারাকার ইলেকট্রিক অফিসে কর্মরত। সে আরও বলে যে তার অবসর গ্রহণের সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং অফিসের প্রায় ১৭০ জনের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে চায়।ফোনকারী বারবার দ্রুত ক্যাটারার বুক করার জন্য চাপ দিতে থাকায় বিক্রম রুদ্রের শ্বশুর তাঁকে দ্রুত যোগাযোগ করতে বলেন।













পরবর্তীতে বিক্রম রুদ্র ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রতারক হোয়াটসঅ্যাপে খাবারের মেনু পাঠায়। হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে নাম দেখা যায় “রঞ্জন সরকার”। ট্রুকলারেও একই নাম দেখা যায়, যদিও Samsung Caller ID-তে “সুব্রত দুলুই” নামটি প্রদর্শিত হয়।এরপর প্রতারক খাবারের রেট নিয়ে দরাদরি করলেও শেষ পর্যন্ত বিক্রম রুদ্রের দেওয়া রেটেই রাজি হয়ে যায়। সে জানায় যে বিকেল ১টার মধ্যে বারাকার ইলেকট্রিক অফিসে ম্যানেজারকে পাঠাতে হবে, যেখানে অগ্রিম টাকা দেওয়া হবে।কথোপকথনের মাঝেই প্রতারক জিজ্ঞাসা করে GST বিল দেওয়া যাবে কিনা। পরে সে জানায় যে বিলের বিষয়টি সে “ম্যানেজ” করে নেবে। কিছুক্ষণ পর সে বিক্রম রুদ্রকে একটি “সাহায্য” করার অনুরোধ করে। সে জানায় যে একটি ইলেকট্রনিক্স দোকান থেকে রিটার্ন গিফট কেনা হয়েছে, যার মোট বিল ₹৫৯,৬০০। তার মধ্যে ₹৫০,০০০ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ₹৯,৬০০ জরুরি ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
প্রতারক আশ্বাস দেয় যে বিক্রম রুদ্র যদি সরাসরি ওই দোকানে ₹৯,৬০০ পাঠিয়ে দেন, তাহলে সেই টাকার সঙ্গে ক্যাটারিং-এর অগ্রিম অর্থও তাঁর ম্যানেজারকে অফিসে দিয়ে দেওয়া হবে।বারাকার ইলেকট্রিক অফিস, মেডিক্যাল শপ এবং স্থানীয় বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে প্রতারকের বিস্তারিত জ্ঞান থাকায় এবং তাকে পরিচিত ব্যক্তি মনে হওয়ায় বিক্রম রুদ্র সরল বিশ্বাসে Google Pay-এর মাধ্যমে ₹৯,৬০০ পাঠিয়ে দেন।কিন্তু টাকা পাঠানোর কিছুক্ষণ পর থেকেই প্রতারক তাঁর ম্যানেজারকে বারবার “আর ৫ মিনিটে আসছি” বলে অপেক্ষা করাতে থাকে। পরে ফোন সম্পূর্ণ সুইচ অফ হয়ে যায়।এরপর বিক্রম রুদ্র দেখতে পান যে প্রতারক হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সমস্ত চ্যাট ডিলিট করে দিয়েছে, যেখানে টাকা চাওয়া, ক্যাটারিং ডিল ও পেমেন্ট সংক্রান্ত কথাবার্তা ছিল।ঘটনা প্রসঙ্গে বিক্রম রুদ্র বলেন:“আমরা ছোট ব্যবসায়ী মানুষ।
সবসময় কাস্টমারদের ভগবানের মতো মনে করি। জীবনে কখনও এমন প্রতারণার মুখোমুখি হইনি। লোকটি এত বিস্তারিত লোকাল তথ্য জানত যে প্রথমে সন্দেহ করার কোনও সুযোগই ছিল না।”ঘটনার পরপরই তিনি সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইনে অভিযোগ জানান, কুলটি থানায় যোগাযোগ করেন এবং পরে দ্রুত তদন্তের স্বার্থে নিজে আসানসোল ADPC Cyber Crime দফতরে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।ADPC Cyber Crime থেকে প্রাপ্ত জিডি নম্বর:GDE No. 386, Date: 26/05/2026Cyber Acknowledgement Number:33205260042395বিক্রম রুদ্র ইতিমধ্যেই সমস্ত ব্যাঙ্ক ট্রানজ্যাকশন ডিটেইলস, স্ক্রিনশট, কল রেকর্ড ও অন্যান্য প্রমাণ তদন্তকারী অফিসারদের হাতে তুলে দিয়েছেন।প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে টাকা “সাধুখান ইলেকট্রনিক্স” নামে একটি দোকানে পাঠানো হয়েছিল, যার মালিক হিসেবে “সুকল্যাণ সাধুখান”-এর নাম উঠে এসেছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত চালাচ্ছে।বিক্রম রুদ্র সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আবেদন জানিয়েছেন, বিশেষত যারা সরকারি কর্মচারী বা পরিচিত লোক সেজে প্রতারণা করে।তিনি আরও দাবি করেছেন যে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দ্রুত ও সহজ সাইবার অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা এবং ফাস্ট-ট্র্যাক তদন্ত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হোক, যাতে প্রতারণার শিকার মানুষ দ্রুত বিচার ও সহায়তা পান।বর্তমানে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।


