মাইথনে বড়সড় নৌকা দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা ! চালকের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলেন ১৪ পর্যটক, নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
*বেঙ্গল মিরর, মাইথন, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র মাইথন জলাধারে মঙ্গলবার ঘটে গেল এক বড়সড় দুর্ঘটনা। তবে স্থানীয় নৌকা চালকদের অসীম সাহসিকতা এবং চরম তৎপরতায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ডুবে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন শিশু ও মহিলা সহ মোট ১৪ জন পর্যটক। এই ঘটনায় পর্যটকদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, মাইথনের সামগ্রিক পর্যটন নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন সামনে চলে এসেছে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের দিকে মাইথন জলাধারের ‘মজুমদার নিবাস’-এর নিচে থাকা নৌকা বিহার ঘাট থেকে শিশু, মহিলা ও পুরুষ সহ ১৪ জনের একটি পর্যটক দল নৌকা করে ‘সবুজ দ্বীপ’ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু বর্তমানে মাইথন জলাধারে জলের স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কম রয়েছে। ফলে সবুজ দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছাতেই জলের নিচে লুকিয়ে থাকা একটি বিশাল পাথরের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে পর্যটক বোঝাই নৌকাটির।













পাথরের সঙ্গে ধাক্কার ফলে নৌকার তলদেশ বা নিচের দিক ফেটে যায়। সেখান দিয়ে হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। স্বাভাবিক ভাবেই মাঝ জলাধারে নৌকাটিকে ডুবতে দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পর্যটকরা। প্রাণভয়ে তাঁরা চিৎকার শুরু করেন। সেই সময় খানিকটা দেবদূতের মতো এগিয়ে এলেন স্থানীয় নৌকা চালকরা। তখন ঝাড়খণ্ডের ‘বাবু ঘাট’ থেকে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়া নৌকা চালক মহঃ তাজউদ্দিনের কানে পৌঁছায় পর্যটকদের সেই আর্ত চিৎকার। বিপদ বুঝে মুহূর্তের মধ্যে নিজের নৌকা নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান তিনি।
একে একে নৌকা থেকে ১৪ জনকে তিনি উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারী নৌকা চালক মহঃ তাজউদ্দিন বলেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমি প্রথমে আতঙ্কিত যাত্রীদের শান্ত করার চেষ্টা করি। কারণ সকলে ভয় পেয়ে একপাশে চলে এলে নৌকাটি দ্রুত উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আমি তাঁদের আশ্বস্ত করি এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে একে একে সমস্ত পর্যটকদের আমাদের নৌকায় নিরাপদভাবে স্থানান্তরিত করি। নৌকা চালকের এই তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা এবং নিখুঁত উদ্ধারকাজের ফলেই ১৪ জন পর্যটককে অক্ষত অবস্থায় পাড়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
বাবু ঘাটের ইনচার্জ মন্টু মাহাতো বলেন, এই ঘাট থেকে চার পর্যটককে নিয়ে মহঃ তাজউদ্দিন সবুজ দ্বীপে যান। তিনি যখন ফিরে আসছিলেন, তখন তিনি অন্য একটা নৌকা থেকে পর্যটকদের চিৎকার শুনতে পান। আমাকে ফোন করে তা সে বলে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঐ পর্যটকদের উদ্ধার করতে বলি। সেই মতো সে তাদেরকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পর্যটকরা প্রাণে বাঁচলেও এই ঘটনা মাইথনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকড় আরো একবার সামনে এনে দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে লাইফ জ্যাকেটের অভাব নিয়ে । নিয়ম থাকলেও বহু সময়েই দেখা যায় নৌকা ভ্রমণের সময় পর্যটকরা লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করছেন না। চালক বা প্রশাসনের তরফ থেকেও তা বাধ্যতামূলক করার ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। এত বড় একটি পর্যটন কেন্দ্র। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জলাধারে নৌকা বিহার করেন।
অথচসেখানে কোনো স্থায়ী উদ্ধারকারী দল বা লাইফ গার্ড নেই ! নৌকা চালকদের ভরসাতেই চলছে মাইথনের নৌ-পর্যটন।এদিনের ঘটনার পরে পর্যটকদের দাবি, অবিলম্বে মাইথনে স্থায়ী লাইফ গার্ড এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল মোতায়েন করা হোক।পাশাপাশি, জলের স্তর কম থাকলে কোন কোন রুটে নৌকা চালানো বিপজ্জনক, তা চিহ্নিত করে দিক প্রশাসন। নয়তো আগামী দিনে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।জানা গেছে, দুর্ঘটনায় পড়া পর্যটকেরা বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে মাইথনে এসেছিলেন।



