বেহাল রাস্তায় ঘটছে দুর্ঘটনা সালানপুরে ইসিএলের ডাম্পার আটকে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ, সংস্কার ও স্ট্রিট লাইটের দাবি
*বেঙ্গল মিরর, সালানপুর, রাজা বন্দোপাধ্যায়ঃ* বেহাল রাস্তা খানাখন্দে ভরা। তার জেরে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে দুর্ঘটনা। তার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার আসানসোলের সালানপুর থেকে সামডি যাওয়ার পথে বনজেমারী রেল সাইডিং সংলগ্ন শিবদাসপুর ও বনবিডি যাওয়ার রাস্তার বেহাল দশার প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন গ্রামবাসীরা। ইস্টার্ন কোলফিল্ড লিমিটেড বা ইসিএলের কয়লা পরিবহন করা ডাম্পার সহ সমস্ত গাড়ি চলাচল স্তব্ধ করে দিয়ে চলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল এবং প্রশাসনের দীর্ঘদিনের উদাসীনতার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।













পুরো রাস্তা জুড়ে এখন বিশালাকার গর্ত। বর্ষা শুরু হতেই পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হয়ে উঠেছে। খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত পরশু এক মোটরবাইক আরোহী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মকভাবে চোট পান। এদিন সকালেই একটি টোটো উল্টে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রী, সবাইকেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ অতিক্রম করতে হয়। উপরন্তু, রাতে আলো না থাকায় এলাকাটি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইসিএল কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েও কাজের কাজ কিছু হয়নি। নামমাত্র মেরামতের জন্য গর্তে পাথর আর মাটি ফেলে দায়িত্ব সারে তারা। দু’দিন বর্ষার জলে সেই মাটি-পাথর ধুয়ে গিয়ে অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে পড়ে। রাস্তা দু’দিন ভালো থাকলে পরের দশ দিন চরম নরকযন্ত্রণা সহ্য করতে হয়।গ্রামবাসীরা জানান, তারা কোনো অশান্তি চান না। আমদের দাবি পরিষ্কার, ইসিএলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক বা এজেন্টকে সরাসরি ঘটনাস্থলে এসে স্থায়ী পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট বসানোর প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
ডাম্পার ও কয়লা পরিবহণ আটকে দেওয়ার খবর চাউর হতেই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছান ইসিএল আধিকারিকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সঙ্গে সঙ্গেই রাস্তার সাময়িক মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। আধিকারিকরা দ্রুত পাকা রাস্তা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের আশ্বাস দিলে দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা রাস্তা অবরোধ তুলে নেন গ্রামবাসী। তবে বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে।

